কাউখালী প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমরাজুরি ফেরিঘাট এলাকায় সন্ধ্যা নদী ও গাবখান মোহনায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোনোভাবেই এই ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফলে এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে অন্তত ১৫ থেকে ১৮টি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও আরও প্রায় ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পুরো ফেরিঘাট এলাকাই নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ ব্যবসায়ী মাওলানা গাজী আনোয়ার হোসেন জানান ,
আমার দোকানটা ছিল এই ঘাটেই। ভালোভাবে ব্যবসা করতাম, কিন্তু হঠাৎ করে নদীর ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেল।
আরেক ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন,
প্রতিদিন ভয়ে থাকি কখন আবার নদী আমাদের দোকানটা নিয়ে যায়। কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে আমরা সবাই নিঃস্ব হয়ে যাবো।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,
আমরাজুরি ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে নদীর স্রোত বেশি থাকায় তা কার্যকর হচ্ছে না। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙ্গন রোধ করা যাচ্ছে না। ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা রোধ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি স্থায়ীভাবে সমাধান হয়ে যাবে।